সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল
সড়কের অভাবে কৃষকের ভোগান্তি

হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস

  • আপলোড সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০২:০৬:১২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০৯:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন
হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে ধান পরিবহনে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার কৃষক। হাওরের গভীর থেকে পাকা ধান খলায় (ধান শুকানোর স্থান) আনতে ভাঙাচোরা ও কাদামাটির সড়কে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। কোথাও যানবাহন আটকে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে একদিকে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, অন্যদিকে কমছে কৃষকের লাভ।
জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলার ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে এবার বোরো চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ফসল রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও ধান পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা মেরামত ও পাকা করার উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। কৃষকদের অভিযোগ, যুগের পর যুগ হাওরের মাটির রাস্তাগুলো সংস্কার ও পাকা করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টি হলেই এসব রাস্তায় ট্রলি, অটোরিকশা, পিকআপ কিংবা ঠেলাগাড়ি চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। গর্ত ও কাদায় আটকে দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে সময়, বাড়ছে খরচ। শনির হাওরের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, হাওরের গভীর থেকে ধান আনতে পাকা সড়ক খুবই প্রয়োজন। সড়ক না থাকায় প্রতি বস্তা ধান ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচে ট্রলিতে আনতে হচ্ছে। সড়ক ভালো হলে এই খরচ অনেক কমতো।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, ধান উৎপাদন করে লাভের আশা করেছিলাম, কিন্তু পরিবহন খরচে সেই লাভ শেষ। ধান কাটা, শ্রমিক সংকট আর সড়ক দুর্ভোগ মিলিয়ে আসল তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওরের মাটির সড়কগুলো ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। অনেক ক্ষেত্রে ট্রলি আটকে গেলে ধান নামিয়ে আলাদা করে ট্রলি তুলতে হচ্ছে। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের টিআর-কাবিটা প্রকল্প থেকে কিছু জাঙ্গাল (সড়ক) মেরামত করা হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে পাকা সড়ক নির্মাণ। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার হাওরে ধানের ফলন ভালো। কিন্তু টেকসই ও পাকা সড়ক না থাকায় কৃষকদের দুর্ভোগ ও খরচ দুটোই বেড়েছে। সড়ক পাকা হলে সহজে ধান পরিবহন সম্ভব হতো। হাওরবাসীর দাবি, ফসল রক্ষার বাঁধের মতো ধান পরিবহনের সড়ককেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত টেকসই ও পাকা সড়ক নির্মাণে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতিবছরই কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য লাভের বড় অংশ গুনতে হবে পরিবহন দুর্ভোগে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স